সৌদি ভিসা স্ট্যাম্পিং চেক।
ভূমিকাঃ
সৌদি আরবে যাবার পূর্বে প্রত্যেক প্রবাসী কর্মী ও ভ্রমণকারীদের জন্য সৌদি ভিসা স্ট্যাম্পিং চেক করা জরুরী বা গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এটি সৌদি আরবের প্রবেশ করার অনুমোদন পত্রও বলা হয়।
সৌদি ভিসা স্ট্যাম্পিং ছাড়া কোনভাবেই সৌদি প্রবেশ করা যাবে না। তাই সে দেশে গমন করার আগে অবশ্যই অনলাইনে বা বাংলাদেশ সৌদি দূতাবাসে গিয়ে ভিসা স্টাম্পিং চেক করে নিতে হবে।
পেইজের সূচিপত্রঃ সৌদি যাবার পূর্বে ভিসা চেক করার নিয়ম।
- পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম।
- ভিসা চেক করা যায় কি কি পদ্ধতিতে?
- কোন ওয়েব সাইটে কি ধরনের ভিসা চেক করা যায়।
- অনলাইনে সৌদি ভিসা বা স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি।
- ভিসার স্ট্যাটাস চেক এরপর করণীয় কি।
- ভিসা স্ট্যাম্পিংবা অ্যাপপ্রুভ হবার পর করনীয় কি।
- ইমিগ্রেশনে কি কি ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়।
- সৌদির ভিসা চেক করার সুবিধা।
- সৌদি ভিসা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিম্নে দেওয়া হল।
- উপসংহার।
পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম।
পাসপোর্ট এর মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ অবশ্যই চেক করতে হবে। কারণ যদি সৌদি আরবে বা যে কোন দেশে সহজে যেতে হলে পাসপোর্ট এর মেয়াদ অবশ্যই ছয় মাস বা ১৮০ দিনের বেশি থাকিতে হইবে। ছয় মাসের কম হলে কোন দেশে প্রবেশ করতে পারা যাবে না।পাসপোর্ট এর মেয়াদ চেক করা খুবই গুরুত্ত বিষয়।
ভিসা চেক করা যায় কি কি পদ্ধতিতে?
সৌদি আরবের ভিসা স্ট্যাটাস বা পদ্ধতি প্রধানত দুইভাবে চেক করা যায়।
এক নাম্বার ধাপ- সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিসা ডট মোফা ডট গভার্নমেন্ট ডট এস এ (visa.mofa.gov.sa) এই ওয়েব সাইট।
আরো পড়ুনঃ কিভাবে পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম।
দুই নাম্বার ধাপ- ভি এফ এস গ্লোবাল (VFS Global)। এ ছাড়াও আরও এক পদ্ধতিতে চেক করা যায় তা হল-
তিন নম্বর ধাপ- অপ্সর পোর্টাল (Absher) এর মাধ্যমে ভিসা চেক করা যায়।
কোন ওয়েব সাইটে কি ধরনের ভিসা চেক করা যায়।
এক নম্বর ধাপ- (visa.mofa.gov.sa) এই ওয়েবসাইটটি সৌদি আরবের প্রধান ভিসা ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটটি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট যেখানে ভিসা আবেদনের অবস্থা সরাসরি যাচাই করা যায়।
দুই নম্বর ধাপ- ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global) এই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ভিসার জন্য যারা আবেদন করে থাকেন তারা তাদের আবেদনের তথ্য যাচাই করিতে পারিবে।
তিন নম্বর ধাপ- অপ্সর পোর্টাল (Absher) এই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ভিসার এক্সিট বা রি এন্ট্রি ভিসার জন্য তথ্য যাচাই করিতে পারিবে।
অনলাইনে সৌদি ভিসা বা স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি।
এক নম্বর ধাপ- ওয়েবসাইট ভিজিট করুন- প্রথমে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ভিসা ডট গভর্নমেন্ট ডট এস এ (visa.mofa.gov.sa) ওপেন করুন।
দুই নাম্বার ধাপ- পরিষেবা অপশন খুঁজুন- ওয়েবসাইট ওপেন করার পর হোমপেজে ভিজিটরস এর জন্য পরিষেবা বা সার্ভিস ফর ভিজিটর এই অপশন খুঁজুন এবং ক্লিক করুন।
তিন নাম্বার ধাপ- তথ্য প্রবেশ করুন- এই পেজে আপনার আবেদনের নম্বর/এপ্লিকেশন নাম্বার বা পাসপোর্ট নম্বর এবং অন্য সব প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন। যেমন ভিসার ধরন ব্যক্তিগত তথ্য ক্যাপচা কোড ইত্যাদি প্রদান করুন।
চার নাম্বার ধাপ- স্ট্যাটাস দেখুন- চেক স্ট্যাটাস সার্চ (search) বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আপনি আপনার বর্তমান ভিসার স্ট্যাটাস বা অবস্থা জানতে পারবেন।
ভিসা স্ট্যাটাস চেক এরপর করণীয় কি।
চেক স্ট্যাটাসে ক্লিক করার পর যদি দেখতে পান যে ভিসা স্ট্যাটাস ইস্যুড বা অ্যাপপ্রুভ বা প্রসিড দেখায় তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার ভিসার কাজ সঠিকভাবে এগোচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ ইমগ্রেশনে কি কি ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়।
আর যদি দেখতে পান যে ভিসা স্ট্যাটাস পেন্ডিং বা রিজেক্ট দেখায়। তাহলে যে এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন সেই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং কেন রিজেক্ট হলো তা জানা যাবে বা সে হিসাবে কাজ করতে হবে। অথবা আপনাকে বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারবেন কি কারণে ভিসা পেন্ডিং বা রিজেক্ট হলো এবং সেইভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।
ভিসা স্ট্যাম্পিং বা অ্যাপপ্রুভ হবার পর করনীয় কি।
এক নম্বর ধাপ- ভিসা অ্যাপপ্রুভ হবার পরবর্তী কাজ হল আপনাকে বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসের অ্যাপপ্রুভ করা মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে মেডিকেল করাতে হবে।
দুই নাম্বার ধাপ- বাংলাদেশ সরকারের ম্যানপাওয়ার অফিস হইতে ম্যান পাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে।
তিন নাম্বার ধাপ- এয়ার টিকিট খরিদ করতে হবে। এসব কিছু হয়ে গেলে যাবার সময় এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন খুব সহজেই করা যাবে।
ইমিগ্রেশনে কি কি ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়।
ইমগ্রেশনের জন্য নিমের ডকুমেন্টে বা প্রয়োজনীয় যেসব কাগজপত্র দরকার হবে সেসব ডকুমেন্ট ছাড়া কখনো ইমিগ্রেশন করা যাবে না। যেমন-
এক নম্বর ধাপ- আপনাকে অবশ্যই অ্যাপপ্রুভ ভিসার ফটোকপি নিতে হবে।
দুই নাম্বার ধাপ- বাংলাদেশ সরকারের ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স পেপার লাগবে।
তিন নাম্বার ধাপ- এয়ার টিকিট লাগবে।
চার নাম্বার ধাপ- পাসপোর্ট এবং ভোটার আইডি কার্ড লাগবে।
পাচ নাম্বার ধাপ- যে কোম্পানির ভিসা সেই কোম্পানির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে।
সৌদির ভিসা চেক করার সুবিধা।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোকেরা সৌদির ভিসা চেক না করে এয়ারপোর্টে যায় সৌদি যাওয়ার জন্য। অনেক বিদেশ গমন কারীদেরও সঠিক ভিসা না থাকার জন্য এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত আসতে হয়। তাই বিদেশ যাবার আগে অবশ্যই ভিসার সমস্ত কাগজপত্র চেক করে নিতে হবে। আগে ভিসা চেক করার সুবিধা হল-
এক নম্বর ধাপ- ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব দ্রুত ভিসার অবস্থা যাচাই করা যায়।
দুই নাম্বার ধাপ- সঠিক এবং নির্ভুল সব তথ্য পাওয়া যায়।
তিন নাম্বার ধাপ- আপনার ভিসার জন্য ভিসার আবেদন এবং সঠিক নজরদারি করা যায় কোন দালাল চক্রের হাত থেকে বাঁচা যায়।
সৌদি ভিসা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিম্নে দেওয়া হল।
এক নম্বর ধাপ- আপনার সব সঠিক তথ্য প্রবেশ করান অনলাইনে। ভুল তথ্য দিলে ফলাফল ঠিক না আসার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকবে।
দুই নাম্বার ধাপ- তথ্য যাচাইয়ের জন্য আপনার ডিভাইসটি ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা খুবই জরুরী।
তিন নাম্বার ধাপ- আপডেট গুলো মনোযোগ সহকারে দেখুন। যেসব তথ্য দিয়েছেন সেসব তথ্য সঠিক আছে কিনা গুরুত্ব সহকারে চেক করতে হবে।
উপসংহার।
সৌদি ভিসা আবেদন চেক করা অনেক সহজ হয়। যদি আপনি সঠিক তথ্য এবং প্রক্রিয়াগুলি মনোযোগ সহকারে অনুসরণ করেন। সৌদি ভিসা চেক করা প্রত্যেক প্রবাসী কর্মী ও ভ্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এটি মূলত সৌদি দূতাবাসের অনুমোদন পত্র। যা প্রমাণ করে আপনি সে দেশে প্রবেশের জন্য সমস্ত অনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করেছেন।
আশা করি এই পদক্ষেপগুলি আপনার সৌদি গমনের জন্য খুবই সহায়ক হবে। এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই আপনার সৌদি ভিসার স্টাম্পিং এবং বৈধতা অনলাইনে যাচাই করতে পারবেন এবং সহজেই সৌদি গমন করতে পারিবেন।



সুপারমাষ্টার আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url