নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা
নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা। নিম পাতা একটি অত্যন্ত কার্যকরী ভেষজ উপাদান। যা এন্টি ব্যাকটেরিয়া ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি গুণের কারণে চর্মরোগ নিরাময়, ব্রণ দূর করা, রক্ত পরিষ্কার করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুন কাজ করে।
যেহেতু নিম পাতা একটি অত্যন্ত কার্যকরী ভেষজ উপাদান। তাই এই নিম পাতা ব্যবহার করার কিছু নিয়ম আছে। যেমন খালি পেটে সেবন, নিম পাতার রস সেবন, নিমের পাতা গুড়া করে সেবন করা ইত্যাদি। কিভাবে সেবন করবেন তা নিম্নে দেওয়া হল।
পেইজের সূচিপত্রঃ নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা
- নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা
- নিম পাতা কি
- নিম পাতার উপকারিতা
- ত্বকের জন্য খুব উপকারী
- রক্ত পরিষ্কার করে
- চুলের যত্নে কার্যকর
- দাঁতের যত্নে ভালো
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
- ক্ষত বা কাটা জায়গায দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে
- জ্বর কমাতে সহায়তা করে
- নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলী
- নিম পাতার অপকারিতা
- অতিরিক্ত খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে
- গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
- লিভারের সমস্যা হতে পারে
- এলার্জি হতে পারে
- ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা
- শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়
- নিম পাতা ব্যবহার করার কিছু সতর্কতা
- শেষ কথা
নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা
নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতাঃ নিম পাতা আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষস উপাদান। গ্রামে এবং শহরে প্রায় সব জায়গাতেই নিমগাছ দেখা যায়। আমরা অনেকেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে, নিম পাতার গুণের শেষ নেই। এই নিম পাতার যেমন অনেক উপকারিতা আছে, তেমনি এই নিম পাতার কিছু অপকারিতা আছে।
আরও পড়ুনঃ নিম গাছ পরিবেশের কি উপকারে আসে। জানতে এখানে ক্লিক করুন
নিম পাতা ব্যবহারের আগে এর উপকারিতা বা ভাল দিক এবং অপকারিতা বা মন্দ দিক আছে। তেমনি নিম পাতা ব্যবহার করার নিয়মাবলী জানা দরকার। কারণ এই নিম পাতা অতিরিক্ত পরিমাণে সেবন করলে উপকারের চেয়ে অপকারিতাই বেশী হয়। আমার এই লেখায় সহজ ভাষায় নিম পাতার উপকারিতা, অপকারিতা এবং ব্যবহার করার নিয়মাবলী নিয়ে নিম্নে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। যাহাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই বুঝতে এবং নিমের পাতা ব্যবহার করতে পারে।
নিম পাতা কি
নিম পাতা কিঃ নিম পাতার উপকারিতা, অপকারিতা এবং এর ব্যবহার করার নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করার আগে জানা দরকার, এই নিম পাতা কি? নিম একটি ঔষুধি গাছ, এর বৈজ্ঞানিক নাম Azadirachta Indica। এই গাছের পাতা, ছাল, বীজ সবকিছুই বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে নিম পাতা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি সহজে পাওয়া যায় এবং অনেক রোগের উপকারী। তাহলে নিম পাতা কি আমাদের জানা হল। আসুন আমরা দেখে নেই এই নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে।
নিম পাতার উপকারিতা
নিম পাতার উপকারিতাঃ আমরা অনেকেই জানি, আবার অনেকেই জানিনা, নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের লোকেরা নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে কিছুটা জানলেও শহরের লোকেরা নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে তেমন কিছু জানেনা। তাই নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিম্নে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।
ত্বকের জন্য খুব উপকারী
ত্বকের জন্য খুব উপকারীঃ নিম পাতা ত্বকের জন্য খুবই ভালো একটি উপাদান, এতে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ফাঙ্গাল গুণ আছে। যা ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে থাকে। যেমন প্রথমত- ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত- চুলকানি বা এলার্জি কমায়। তৃতীয়ত- একজিমা বা ফুসকুড়ি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চতুর্থত- নিম পাতা বেটে মুখে কয়েক মিনিট লাগিয়ে রাখলে ত্বক পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল হয়। কিভাবে নিম পাতা ব্যবহার বা সেবন করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
নিম গাছ পরিবেশের কি উপকারে আসে
নিম গাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি গাছ। গ্রামের মানুষেরা এই নিম গাছ গ্রামের রাস্তার দুই ধারে সারিবদ্ধ ভাবে লাগিয়ে থাকে। তাছাড়াও প্রত্যেক বাড়িতে তিন চারটি করে নিম গাছ লাগিয়ে থাকে। এই গাছ মূলত বায়ু বিশুদ্ধকরণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মৃত্তিকার সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। এটি প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং ক্ষতিকারক কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে বাতাস পরিষ্কার রাখে তাই এই নিম গাছ আমাদের পরিবেশের অনেক উপকারে আসে
আরও পড়ুনঃ নিম তেলের কাজ কি? জানতে এখানে ক্লিক করুন
রক্ত পরিষ্কার করে
রক্ত পরিষ্কার করেঃ নিমের পাতা রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে। শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদান বের করতে এটি খুবই কার্যকর। যেমন প্রথমত- নিয়মিত অল্প পরিমাণে নিম পাতা খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকে। দ্বিতীয়ত- ত্বকের সমস্যা অনেক অংশে কমে যায়। তবে এটি পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই ভাল। এই নিমের পাতা কিভাবে ব্যবহার বা সেবন করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
চুলের যত্নে কার্যকর
চুলের যত্নে কার্যকরঃ নিম পাতা চুলের জন্য খুব উপকারী একটি উপাদান। যেমন প্রথমত- চুলের খুশকি দূর করে। দ্বিতীয়ত- মাথার ত্বকের চুলকানি কমায়। তৃতীয়ত- চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। চতুর্থত- নিম পাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে মাথা ধুলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই নিমের পাতা কিভাবে ব্যবহার বা সেবন করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
দাঁতের যত্নে ভালো
দাঁতের যত্নে ভালোঃ গ্রামের অনেকেই এখনো নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজেন। কারণ নিম দাঁতের জন্য খুব উপকারী একটি উপাদান। যেমন প্রথমত- দাঁতের জীবাণু দূর করে। দ্বিতীয়ত- দাঁতের মাড়ি শক্ত করে। তৃতীয়ত- মুখের দুর্গন্ধ কমায়। এই নিমের পাতা কিভাবে ব্যবহার বা সেবন করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করেঃ নিম পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। যেমন প্রথমত- ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত অল্প পরিমাণে নিম পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত- অতিরিক্ত নিম পাতা না খেয়ে, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই নিমের পাতা কিভাবে ব্যবহার বা সেবন করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ নিম পাতায় প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। যেমন প্রথমত- ঠান্ডা লাগা এবং কাশি কমাতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত- এই নিম পাতা খেলে শরীরকে শক্তিশালী রাখে। এই নিমের পাতা কিভাবে ব্যবহার বা সেবন করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
ক্ষত বা কাটা জায়গায দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে
ক্ষত বা কাটা জায়গায দ্রুত শুকাতে সাহায্য করেঃ নিম পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। যেমন প্রথমত- ক্ষত স্থানের জীবাণুর সংক্রমণ কমায়। দ্বিতীয়ত- ক্ষত জায়গা বা ঘা দ্রুত ভালো হয়। এই নিমের পাতা কিভাবে ব্যবহার করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
জ্বর কমাতে সহায়তা করে
জ্বর কমাতে সহায়তা করেঃ গ্রামের মানুষেরা এখনও প্রচলিত নিয়মে নিম পাতা ব্যবহার করে থাকে। তারা জানে এই নিম পাতা জ্বর কমাতে ব্যবহার করা হয়। যেমন প্রথমত- নিম পাতার সিদ্ধ পানি খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে জ্বর ভাব ক্মে যায়। দ্বিতীয়ত- ভাইরাল জ্বরের বেশ কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। এই নিমের পাতা কিভাবে ব্যবহার বা সেবন করবেন। তা নিম্নে "নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীর" মধ্যে উল্লেখ করা হল।
নিম তেলের কাজ কি
নিম তেল বলতে বুঝায়, নিম গাছের বিজ থেকে তৈরি একটি প্রাকৃতিক তেল। এই তেল বহু বছর ধরে বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। নিম তেলের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এটি জীবাণু ও ছত্রাক দূর করতে সাহায্য করে। তাই অনেকেই ত্বকের সমস্যায় এই তেল ব্যবহার করে থাকে। যেমন মুখের ব্রণ, চুলকানি, ফুসকুড়ি বা খুশকি কমাতে নিম তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
চুলের যত্নেও নিম তেল খুব উপকারী। এটি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং উকুন ও খুসকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল মজবুত ও স্বাস্থ্যকর হতে পারে। এছাড়াও কৃষি কাজে নিম তেলের ব্যবহার করা হয়। অনেক কৃষক ফসলের পোকামাকড় দূর করতে প্রাকৃতিক কিটনাশক হিসাবে নিম তেল ব্যবহার করেন। এতে রাসায়নিকের ক্ষতির প্রভাব অনেক কমে যায়। এই নিম তেল ব্যবহারের আগে মনে রাখতে হবে। অতিরিক্ত নিম তেল ত্বকে জ্বালাপোড়া ও এলার্জি হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা ভালো। শিশু বা গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলী
নিম পাতার ব্যবহার করার নিয়মাবলীঃ নিম পাতা খাওয়ার কিছু সহজ উপায় আছে। যেমন প্রথমত- সকালে খালি পেটে ২-৩ টি কচি নিম পাতা চিবিয়ে খেলে শরীরের জন্য খুবই উপকারী। দ্বিতীয়ত- নিম পাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে শরীর ভাল থাকে এবং গোসল করলে ত্বকের চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি, ও র্যাশ কমে যায়।
তৃতীয়ত- ১-২ চা চামচ নিম পাতার রস করে, সামান্য মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। চতুর্থত- নিম পাতার গুড়া- নিম পাতা শুকিয়ে গুড়া করে প্রতিদিন ১-২ চা চামচ পানির সাথে মিশিয়ে খেলে হজমের সমস্যা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে সেবন করা বা খাওয়াই উত্তম। কোন ধরনের রোগ হলে তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই সব চেয়ে ভাল।
নিম পাতার অপকারিতা
নিম পাতার অপকারিতাঃ যেহেতু নিমপাতা একটি অত্যন্ত কার্যকরী ভেষজ উপাদান। তাই এই নিম পাতার যেমন উপকারিতা আছে। তেমনি এর কিছু অপকারিতাও আছে। যদিও নিম পাতা খুবই উপকারী, তবে অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে কিছু ক্ষতি হতে পারে। নিম পাতার অপকারিতা কি, তা নিম্মে আলোচনা করা হলো।
অতিরিক্ত খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে
অতিরিক্ত খেলে বিষক্রিয়া হতে পারেঃ যেহেতু নিম পাতার অনেক উপকার হয়। তাই অনেকেই ভাবে যে বেশী খেলে বেশী উপকার হয়, তা কিন্তু নয়। তাই নিম পাতা বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের সমস্যা হতে পারে। যেমন প্রথমত- বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। দ্বিতীয়ত- মাথা ঘোরা বা মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারে। তৃতীয়ত- পেট ব্যথা করে, অনেক সময় অতিরিক্ত খেলে প্রচুর পেটে ব্যথা করে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখাই ভাল।
গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণঃ নিম পাতা খাওয়া অবশ্যই উপকার, তবে গর্ভবতী নারীদের নিম পাতা খাওয়া উচিত নয়। যেমন প্রথমত- গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত- গর্ভ অবস্থায় খেলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। তাই গর্ভ অবস্থায় নিম পাতা না খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম কাজ।
লিভারের সমস্যা হতে পারে
লিভারের সমস্যা হতে পারেঃ প্রাপ্ত বয়স্করা অনেক সময় ভাবে, যেহেতু নিম পাতা খাইলে বেশি উপকার তাই না বুঝে অতিরিক্ত নিম পাতা সেবন করে থাকে। আর এই অতিরিক্ত নিম পাতা খেলে লিভারের উপর চাপ পড়ে। যেমন প্রথমত- লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত- লিভারের দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই কোন সময়ই মাত্রা অতিরিক্ত সেবন বা খাওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ নিমের বীজের কাজ কি? জানতে এখানে ক্লিক করুন
এলার্জি হতে পারে
এলার্জি হতে পারেঃ নিম পাতা সবার জন্যই যে উপকারে আসে তা নয়। কিছু মানুষের জন্য অপকারিতাও হতে পারে। কিছু মানুষের নিম পাতায় এলার্জি হতে পারে। যেমন প্রথমত- ত্বকের র্যাস হতে পারে। দ্বিতীয়ত- চুলকানি হতে পারে। তৃতীয়ত- লালচে ভাব হতে পারে। নিম পাতা খাওয়ায় যদি কারো এমন হয়, তা হলে নিম পাতার ব্যবহার না করাই ভাল বা বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতাঃ নিয়ম মেনে নিয়মিত নিম পাতা খেলে ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের হিসাব করে নিম পাতা খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত নিম পাতা খেলে যেমন প্রথমত- হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত- মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিম পাতা নিয়ম মেনে বা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়
শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়ঃ নিম পাতা খাওয়া অবশ্যই উপকার। কিন্তু ছোট শিশুদের নিম পাতা খাওয়ানো ঠিক নয়। তাই নিম পাতা শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখাই নিরাপদ। এই নিম পাতা শিশুদের জন্য যে সমস্যা হতে পারে। যেমন প্রথমত- শিশুদের শরীরের সহ্য ক্ষমতা কম থাকে, তাই নিম পাতা না খাওয়ানই সব চেয়ে ভাল। দ্বিতীয়ত- শিশুদের জন্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখাই সব থেকে উত্তম।
নিমের বীজের কাজ কি
নিমের বীজ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। নিমের বীজ থেকে নিম তেল তৈরি করা হয়। যা ত্বক ও চুলের যত্নে খুবই উপকারী। ব্রণ, খুশক্ চুলকানি এবং ত্বকের জীবাণু দূর করতে নিমের বীজের তেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কৃষিকাজে নিমের বীজের গুরুত্ব অনেক। এটি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসাবে কাজ করে এবং ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় দূর রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় নিমের বীজ শুকিয়ে গুড়া করে জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করে সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই ভালো।
নিম পাতা ব্যবহার করার কিছু সতর্কতা
নিম পাতা ব্যবহার করার কিছু সতর্কতাঃ অনেকেই নিয়ম না মেনে যখন মন চায় তখনই এই নিম পাতা খেয়ে থাকে। তাতে উপকারের চেয়ে অপকারিতাই বেশী হয়ে তাকে। তাই নিমপাতা ব্যবহার করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন প্রথমত- প্রতিদিন বেশি পরিমাণে কখনই খাবেন না। দ্বিতীয়ত- গর্ভবতী বা স্তন্যদান কারী মায়েদের এড়িয়ে চলা। তৃতীয়ত- শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না। চতুর্থত- কোন রোগ থাকলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। পঞ্চমত- প্রথমবার ব্যবহার করলে অল্প করে পরীক্ষা করে নিন।
শেষ কথাঃ নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা
নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতাঃ নিম পাতা প্রকৃতির একটি অসাধারণ উপহার। এটি আমাদের ত্বক, চুল, দাঁত সহ শরীরের ভেতরের অনেক সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে, কোন জিনিসই অতিরিক্ত ব্যবহার করা ভালো নয়। নিম পাতা যতটা উপকারী, ততটাই সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা দরকার। সঠিক নিয়মে এবং পরিমিত পরিমাণে নিম পাতা ব্যবহার করলে, আপনি এর অনেক উপকার পাবেন। কিন্তু ভূলভাবে বা বেশি ব্যবহার করলে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশী থাকে। তাই সচেতন ভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে উত্তম কাজ।
প্রিয় পাঠক, আমার আজকের এই পোস্টটি "নিম পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা" এর বেশ কিছু উপায় নিয়ে সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে আপনাদের সাথে আলোচনা বা শেয়ার করলাম। যদি আমার এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে বা যদি কোন প্রকারের উপকারে আসে। তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু এবং পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে তাদের জানার এবং নিম পাতা ব্যবহারের উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিন।



সুপারমাষ্টার আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url