কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম

  

কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম। কাতারের ভিসা বিশেষ করে যারা কাজের ভিসা, ভিজিট ভিসা, বিজনেস ভিসা বা অন্যান্য ভিসায় কাতারে যেতে চান। ভিসা হাতে পাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সেই ভিসা চেক করে যাওয়া।

কাতারের-ভিসা-চেক-করার-নিয়ম


তাহলে আপনি সহজে জানতে পারবেন, আপনার ভিসা স্ট্যাটাসটি আসল নাকি নকল ভিসা। তাই ভিসা চেক করা খুবই জরুরী। অনেক সময় দালাল বা ভূল তথ্যের কারণে অনেকেই প্রতারিত হয়ে থাকেন।নিম্নে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হল।

পেইজের সূচিপত্রঃ কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম 

কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম 

কাতারের ভিসা চেক করার নিয়মঃ কাতারের যাবার আগে ভিসা চেক করা জরুরী। নিজের ভিসা নিজে অনলাইনে যাচাই করতে জানলে ঝামেলা কম এবং নিরাপদ থাকা যায়। কাতারের ভিসা চেক বলতে এটি একটি অনলাইন সেবা যা কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (MOI) প্রদান করা হয়ে থাকে। এই ওয়েবসাইটি ব্যবহারকারীদের ভিসা আবেদন গুলোর অবস্থা যাচাই করার সুযোগ করে দেয়। পাসপোর্ট নম্বর বা ভিসা নম্বর অথবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করে তাদের ভিসার অবস্থা যাচাই করা যায়।

কাতারের ভিসা চেক কেন করবেন

কাতারের ভিসা চেক কেন করবেনঃ কাতার হল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে উন্নত একটি দেশ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ কাতারে কাজ করতে যান। বিশেষ করে নির্মাণ কাজ, ড্রাইভিং, হোটেলে, হাসপাতাল ও বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক অসাধু দালান নকল ভিসা বা ভুয়া কাগজ পত্র দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করে থাকে। 

আরও পড়ুনঃ কাতারের ভিসার মেডিকেল কোথায় এবং কিভাবে করবেন

তাই ভিসা হাতে পাওয়ার পর সেটি নিজে অনলাইনে যাচাই করে নেয়া খুবই জরুরী। এতে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন আপনার ঐ ভিসা সম্পর্কে। প্রথমত- ভিসা আসল কিনা তা জানা যায়। দ্বিতীয়ত- আপনার নাম বা ঠিকানা সঠিক আছে কিনা। তৃতীয়ত- পাসপোর্ট নাম্বার ঠিক আছে কিনা। চতুর্থত- ভিসার মেয়াদ কতদিন ইত্যাদি। যাবার আগে এই সব কিছু সঠিক ভাবে চেক করে নেয়া উচিত। তা নাহলে ইমিগ্রেশন করার সময় যদি তারা কোন ভূল তথ্য পায়, তাহলে বিদেশ যেতে আপনাকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। এমন কি যাওয়া নাও হতে পারে।

কাতারের ভিসা চেক করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট 

কাতারের ভিসা চেক করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটঃ কাতারের ভিসা যাচাই করার জন্য সরকারিভাবে যে ওয়েবসাইট ব্যবহার হয়, সেটি হল কাতার সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটির নাম হল মিনিস্ট্রি অফ ইন্টেরিয়র কাতার (Ministry of Interior Qatar) এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ভিসার স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। 

কাতারের ভিসার মেডিকেল কোথায় এবং কিভাবে করবেন 

কাতারের ভিসা পাওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল, মেডিকেল পরীক্ষা করা। আর এই মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সাধারণত কাতার সরকারের অনুমোদিত বাংলাদেশের কিছু মেডিকেল সেন্টার আছে, সেখান থেকেই মেডিকেল করাতে হবে। বাংলাদেশে কাতারের ভিসার জন্য মেডিকেল পরীক্ষা করার প্রধান প্রতিষ্ঠান হল (GAMCA / Wafid) নামে পরিচিত। 

কাতারের-ভিসা-চেক-করার-নিয়ম


প্রথমে আপনাকে অনলাইনে ওয়েবসাইটে (GAMCA / Wafid) গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সেখানে আপনার পাসপোর্ট নাম্বার, নাম ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে এবং নিদিষ্ট পরিমাণ ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারে নাম দেওয়া হবে। তারপর সেই নির্ধারিত সেন্টারে গিয়ে মেডিকেল টেস্ট করাতে হবে। মেডিকেল পরীক্ষায় সাধারণত রক্ত পরীক্ষা, এক্সরে এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনি ফিট রিপোর্ট পাবেন। যা ভিসা প্রসেসের জন্য প্রয়োজন হবে। তাই সব সময় নির্ভরযোগ্য এজেন্সি ও অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে কাতারের ভিসার মেডিকেল পরীক্ষা করানো উচিত।

কিভাবে কাতারের ভিসা চেক করা যায়  

কিভাবে কাতারের ভিসা চেক করা যায়ঃ কাতারে যাবার আগে কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম জেনে, ভিসা চেক করে নিতে হবে। যদি ভিসা চেক না করে যান, তাহলে দেখা যাবে যে ইমিগ্রেশন এর সময় অনেক সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই ভিসা চেক না করে, যাবার পর ইমিগ্রেশন থেকে ভূলের কারণে ফেরত আসতে হয়। নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি নিজেই চেক করতে পারবেন।

প্রথম ধাপঃ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন- প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে  (Ministry of Interior Qatar) প্রবেশ করুন। দ্বিতীয় ধাপঃ ভিসা সার্ভিস (Visa Services) অপশন নির্বাচন করুন- ওয়েবসাইটে ঢোকার পর ভিসা সার্ভিস বা ভিসা সার্ভিসেস (Visa Services) নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন সেখানে ক্লিক করুন। তৃতীয় ধাপঃ ভিসা ইনকয়ারি এবং প্রিন্টিং (Visa Inquiry & Printing) এ ক্লিক করুন।

এরপর ভিসা ইনকোয়ারি এন্ড প্রিন্টিং (Visa Inquiry & Printing) নামের একটি অপশন পাবেন, ঐ অপশনটিতে ক্লিক করলে নতুন একটি পেজ খুলবে। চতুর্থ ধাপঃ তথ্য প্রদান করুন- ভিসা নাম্বার অথবা পাসপোর্ট নাম্বার এবং ন্যাশনালিটি, এসব তথ্য সঠিকভাবে লিখুন কোন ভুল থাকলে রেজাল্ট দেখাবে না। পঞ্চম ধাপঃ ক্যাপচা পূরণ করুন- নিরাপত্তার জন্য একটি ক্যাপচা কোড আসবে সেটি দেখে সঠিকভাবে লিখুন। ষষ্ঠ ধাপঃ সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন- সব তথ্য সঠিক থাকলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার ভিসার বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে। 

ভিসা চেক করার সময় কি কি তথ্য দেখবেন 

ভিসা চেক করার সময় কি কি তথ্য দেখবেনঃ  ভিসা যাচাই করার সময় নিচের বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে ভালোভাবে মিলিয়ে দেখবেন। প্রথমত- আপনার পুরো নাম সঠিক আছে কিনা। অবশ্যই পাসপোর্ট এর নামের সাথে মিল থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত- পাসপোর্ট নম্বর সঠিক আছে কিনা মিলিয়ে দেখুন। তৃতীয়ত- ভিসার ধরুন যেমন ওয়ার্ক ভিসা, ভিজিট ভিসা, বিজনেস ভিসা ইত্যাদি। চতুর্থ- ভিসা ইস্যুর তারিখ। পঞ্চম- ভিসার মেয়াদ। ষষ্ঠ- স্পন্সর বা  কোম্পানির নাম।এই সব তথ্য আপনার কাগজের সাথে অবশ্যই মিল থাকলে হবে। 

মোবাইল দিয়ে ভিসা চেক করার উপায় 

মোবাইল দিয়ে ভিসা চেক করার উপায়ঃ আপনি হয়ত ভাবছেন মোবাইল দিয়ে ভিসা চেক করা যাবে কিনা। যদি ভেবে থাকেন তাহলে আপনার ধারনা ভূল। বর্তমানে অবশ্যই মোবাইল দিয়ে ভিসা চেক করা যায়। আপনার যদি একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মাট ফোন এবং ইন্টারনেট কানেকশন থাকে। তাহলে আপনি সেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে সহজেই কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম বা ভিসা চেক করতে পারবেন। 

আরও পড়ুনঃ কাতারে পৌছানোর পর যে ভুলটি করবেন না

প্রথমে মোবাইল দিয়ে ব্রাউজার খুলে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে  (Ministry of Interior Qatar) যেতে হবে। এরপর ভিসা সার্ভিস (Visa Services) অপশনে যান, তারপর ভিসা ইনকয়ারি এবং প্রিন্টিং (Visa Inquiry & Printing) যান এবং সেথানে আপনার তথ্য প্রদান করুন- ভিসা নাম্বার অথবা পাসপোর্ট নাম্বার এবং ন্যাশনালিটি, এসব তথ্য সঠিকভাবে লিখুন। এরপর নিরাপত্তার জন্য একটি ক্যাপচা কোড আসবে সেটি দেখে সঠিকভাবে লিখুন এবং সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন সব তথ্য সঠিক থাকলে আপনার ভিসার বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে। 

অনলাইনে ভিসা খুঁজে না পেলে কি করনীয় 

অনলাইনে ভিসা খুঁজে না পেলে কি করনীয়ঃ ওয়েবসাইটে অনেক সময় সব তথ্য দেওয়ার পরও দেখা যায় যে ভিসা খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার কখনো কখনো তথ্য ভুল দেওয়ার কারণে ভিসা খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন আবার সঠিক তথ্য যেমন পাসপোর্ট নাম্বার আবার চেক করুন, ভিসার নাম্বার সঠিকভাবে লিখেছেন কিনা চেক করুন, জন্ম তারিখ, দেশের নাম ইত্যাদি সঠিকভাবে নির্বাচন করে আবার চেক করুন। তারপরও যদি ভিসা খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে আপনার নিয়োগ কারী বা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন। 

কাতারে পৌঁছানোর পর যে ভুলটি করবেন না 

কাতারের ভিসা নিয়ে যখন ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করে কাতারে পৌঁছাবেন। তখন অনেকেই যে ভুলগুলি করে থাকে। বাংলাদেশের অনেকেই কাতার যাওয়ার পরে তারা অপেক্ষা না করে কাজে যোগদান করেন। এতে রাস্তাঘাটে পুলিশ তাদেরকে ধরলে অনেক বড় জরিমানা করে, এমনকি দেশেও পাঠাইয়া দেয়। তাই আপনার কাগজপত্র রেডি না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগদান না করাই ভাল।

কাতারে পৌঁছানোর পর প্রথমে আপনি, আপনার সমস্ত ডকুমেন্ট নিয়ে যে কোম্পানির ভিসা নিয়েছেন ওই কোম্পানিকে দিতে হবে। কোম্পানি সমস্ত প্রসেসিং রেডি করে আপনাকে কাতার সরকার অনুমোদিত কাতার ন্যাশনাল আইডি (QID) বলে একটি কার্ড আছে সেই কার্ডটি আপনাকে দেবে। যখন ঐ কার্ডটি হাতে পাবেন তখন আপনি বাইরে কাজ করতে পারবেন। অবশ্যই মনে রাখবেন QID কার্ডটি হাতে না পাওয়া পযন্ত বাহিরে বেশী ঘুরাঘুরি না করাই ভাল।

কাতারে কোন কোন ধরনের ভিসা পাওয়া যায় 

কাতারে কোন কোন ধরনের ভিসা পাওয়া যায়ঃ কাতারে যাবার আগে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে যে, কি ধরণের ভিসায় আপনি যাচ্ছেন। কারণ কাতার সরকার বিভিন্ন ধরনের ভিসা দিয়ে থাকে। যেমন ওয়ার্ক ভিসা (Work Visa), ভিজিট ভিসা (Visit Visa), ফ্যামিলি ভিসা (Family Visa), বিজনেস ভিসা (Business Visa), টুরিস্ট ভিসা (Tourist Visa) ইত্যাদি। তাই কাতারে যাবার আগে অবশ্যই আপনি ভাল ভাবে যাচাই করে নিন যে, কোন ধরনের ভিসায় যাচ্ছেন তা না হলে পরবতীতে সমস্যা হতে পারে। তাই যাবার আগে অবশ্যই নিশ্চিত করে যাওয়া উচিত।

ইমিগ্রেশনে কি কি ডকুমেন্ট (কাগজপত্র) প্রয়োজন হয়

ইমিগ্রেশনে কি কি ডকুমেন্ট (কাগজপত্র) প্রয়োজন হয়ঃ ইমিগ্রেশন করে ছাড়া কেউ কোন দেশে যেতে পারে না। তাই কাতারে যাওয়ার আগে ইমিগ্রেশন করার সময় নিম্নের কাগজপত্র অবশ্যই নিজের কাছে আছে কিনা নিশ্চিত করুন। যেমন প্রথমত-পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস আছে কিনা চেক করুন। দ্বিতীয়ত- ভিসার প্রিন্ট কপি অবশ্যই কাছে রাখুন।

তৃতীয়ত- ফ্লাইটের টিকিট সঠিক কিনা ভাল ভাবে দেখে নিন। চতুর্থ- মেডিকেল রিপোর্ট কাতার সরকারের অনুমুদিত কিনা সঠিক ভাবে যাচাই করে নিন। পঞ্চম- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চেক করে নিন যেন তার মেয়াদ ছয় মাস এর বেশী না হয়। ষষ্ঠ- ম্যানপাওয়ার কিলারেন্স না থাকলে অবশ্যই ম্যানপাওয়ার কিলারেন্স করে নিন। সব কাগজপত্র ভালভাবে চেক করে, তা একসাথে একটি ফাইলে রাখুন। যেন এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন করার সময় কোন সমস্যাতে পড়তে না হয়। আর এইসব কাগজপত্র কাছে থাকলে খুব সহজেই ইমিগ্রেশন করাতে পারবেন।  

দালালের প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় 

দালালের প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়ঃ বর্তমানে বাংলাদেশে দালাল চক্রের সংখ্যা অনেক বেশী। অনেক দালালরা ভুয়া ভিসা তৈরি করে দিয়ে সব টাকা নিয়ে নেয় এবং পরে ভিসা নিয়ে কোন সমস্যা হলে তাদেরকে আর খুজে পাওয়া যায় না। তাই চেষ্টা করা উচিত সবসময় সরকারি লাইচেন্স প্রাপ্ত এজেন্সি ধরে বিদেশ যাওয়া। আর যদি কখনো দলাল ধরে যান তাহলে নিম্নের বিষয়গুলো মনে রাখবেন।

আরও পড়ুনঃ কাতারের ভিসা হাতে পাওয়ার পর কি করনীয়

প্রথমত- নিজের পরিচিত লোক ছাড়া, কখনো অচেনা কাউকে ভিসার জন্য টাকা দেবেন না। দ্বিতীয়ত-সব সময় সারকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করুন। তৃতীয়ত- ভিসার কপি হাতে পেলে তা নিজে অনলাইনে চেক করুন। চতুর্থ- কেউ যদি অতিরিক্ত টাকার লোভ দেখায়, তাহলে কখনই সেই ফাঁদে পা দেবেন না। মনে রাখবেন আসল ভিসা সব সময় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। তাই যদি কখনো দালাল ধরে ভিসা নেন, তা আগে সরকারি অয়েবসাইটে যাচাই করে দেখে নিন।

কাতারের ভিসা হাতে পাওয়ার পর কি করনীয় 

আপনি যখন কাতারের ভিসা হাতে পাবেন, তখন আপনাকে বেশ কিছু কাজ অবশ্যই গুরুত্ত সহকারে করতে হবে। তার মধ্যে প্রথম কাজ হল সবার আগে আপনি চেক করবেন, আপনার সেই ভিসাটি অরিজিনিয়াল কিনা। এর জন্য আপনাকে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (MOI), আপনার সমস্ত ডকুমেন্ট সাবমিট করে চেক করে নিবেন ভিসা স্ট্যাটাস।

কাতারের-ভিসা-চেক-করার-নিয়ম


যদি ভিসাটি নকল হয় তাহলে অনলাইনে আপনার ভিসাটি দেখা যাবে না। আর ভিসাটি যখন অনলাইনে দেখাবে, তখন অবশ্যই আপনার পাসপোর্ট এর সাথে সমস্ত কিছু মিলিয়ে চেক করে নিবেন। বিশেষ করে নাম, ভিসা নাম্বার, পাসপোর্ট নাম্বার, ভিসার মেয়াদ ইত্যাদি। আপনার সমস্ত পেপারস ঠিক আছে কিনা চেক করে নিন। যেমন সরকারের ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছয় মাসের অধিক হওয়া যাবে না, পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে, চেয়ারম্যান বা কমিশনার দ্বারা জন্ম সনদপত্র, এয়ার টিকিট, মেডিকেল রিপোর্ট, ভিসা কপি ইত্যাদি। সমস্ত চেক করে একটি ফাইল করে রাখুন যাতে ইমিগ্রেশনে কোন সমস্যা না হয়।

কাতারে পৌঁছানোর পর করণীয় কি

কাতারে পৌঁছানোর পর করণীয় কিঃ সব কিছু ঠিক থাকলে কাতারে পৌঁছানোর পর, প্রথমে আপনাকে আপনার স্পন্সর বা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। আপনার ডকুমেন্টগুলো যেমন মেডিকেল, ভিসা কপি, পাসপোর্ট ইত্যাদি আপনার স্পন্সর বা কোম্পানিকে দিতে হবে। তারা আপনাকে আইডি কার্ড (NID) তৈরি করতে সাহায্য করবে। কাতারের কাজ করার জন্য এই আইডি কার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইডি কার্ড ছাড়া আপনি কোথাও কোন রকমের কাজ করতে পারবেন না। তাই কাতারে যাবার পর প্রথম কাজ হল আইডি কার্ড তৈরি করে নেওয়া।   

শেষ কথাঃ কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম 

কাতারের ভিসা চেক করার নিযম। কাতারের ভিসা নিয়ে অনেকেই কাজ বা ব্যবসা বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেয়ে থাকেন। তাই কাতারে যাওয়ার আগে ভিসা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এতে আপনি প্রতারণা থেকে বাঁচতে পারবেন এবং নিশ্চিন্তে বিদেশ যাত্রা করতে করতে পারবেন। তাই ভিসা হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই সেটি সঠিক কিনা যাচাই করা খুব জরুরি।

প্রিয় পাঠক, সব সময় মনে রাখবেন নিজের ভিসা অনলাইনে নিজেই যাচাই করুন। সরকারি ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোন লিংকে বিশ্বাস করবেন না। সঠিক তথ্য দিয়ে খুব সহজেই আপনি জানতে পারবেন, আপনার ভিসা আসল কিনা। সচেতন থাকু্‌ন, নিরাপদ থাকুন আর সঠিক নিয়ম মেনে বিদেশ যাত্রা করুন। আর আমার এই পোস্টটি যদি আপনাদের ভাল লেগে থাকলে, তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু বা পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে তাদের জানার সুযোগ করে দিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সুপারমাষ্টার আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mohammad Nurul Islam
Mohammad Nurul Islam
আমি সুপারমাষ্টার আইটির অ্যাডমিন এবং একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট। আমি একজন অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে থাকি।