সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম

  

সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম। অনেক মুসলমানদের স্বপ্ন জীবনে একবার হলেও পবিত্র মক্কা ও মদিনা ভ্রমণ করে ওমরাহ পালন করা। অনেকেই জানে না কিভাবে সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়।

সৌদি-আরবের-ওমরাহ-ভিসার-জন্য-আবেদন-করার-নিয়ম


সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার আবেদন করার জন্য বেশীর ভাগ সময়ই দালাল ধরে করতে হয়। তাই অনেক সময় প্রতারণার শিকার হতে হয়।  আজ আমরা সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে জানাব সৌদি ওমরাহ ভিসা আবেদন করার সহজ নিয়ম। 

পেইজের সূচিপত্রঃ সৌদি ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম

সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম

সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়মঃ সৌদি আরবের ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সরকার অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে অনলাইনে ভিসা জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন করার জন্য পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে, ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা দুই কপি ছবি লাগবে, হোটেল বুকিং, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন এবং টিকিট ইত্যাদি প্রয়োজন হবে। 

প্রয়োজনীয় তথ্য সহ ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। এর জন্য সরকার অনুমদিত ট্রাভেল এজেন্সির একজন নিবন্ধিত ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা সবচেয়ে নিরাপদ। আর অনলাইনে আবেদন করার জন্য নুসুক অ্যাপস বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবান। এর জন্য আপনাকে নিদিষ্ট পরিমান ভিসা ফি দিতে হবে। আর ভিসা প্রসেসিং হইতে সময় লাগে সাধারণত তিন থেকে সাত কর্ম দিবস। সব কিছু ঠিক থাকলে ঐ সময়ের মধ্যেই ওমরাহ ভিসা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুনঃ সৌদি ভিসা স্ট্যাম্পিং চেক

ওমরাহ ভিসা বলতে কি বুঝায় 

ওমরাহ ভিসা বলতে কি বুঝায়ঃ ওমরাহ ভিসা বলতে বুঝায় এমন একটি বিশেষ ভিসা, যার মাধ্যমে মুসলমানরা সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালন করতে পারেন। এই ভিসা শুধুমাত্র ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধ থাকে। এই ভিসা নিয়ে আপনি পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীতে ইবাদত করতে পারবেন। এই ভিসার মেয়াদ আগে বেশী ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে এই ভিসার মেয়াদ তিন মাস করা হয়েছে। ওমরাহ ভিসা ইসু হবার সময় থেকে অবশ্যই এক মাসের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হবার আগে অবশ্যই দেশে ফিরে আসতে হবে। 

ওমরাহ ভিসার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবে 

ওমরাহ ভিসার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবেঃ ওমরাহ ভিসার আবেদন করার জন্য সবার আগে কিছু জরুরী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো লাগবে যেমন প্রথমত- বৈধ পাসপোর্ট এবং আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত- পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা দুই কপি ছবি লাগবে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হইতে হবে। তৃতীয়ত- জাতীয় পরিচয় পত্র বা এন আই ডি কার্ড, অনেক ক্ষেত্রে এনআইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন লাগতে পারে। চতুর্থ-  ওমরাহ  এজেন্সির মাধ্যমে হোটেল বুকিং এবং রিটান টিকিট বুকিং থাকতে হবে। 

ওমরাহ ভিসার জন্য কোথায় আবেদন করবেন 

ওমরাহ ভিসার জন্য কোথায় আবেদন করবেনঃ সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম। অনেকেই সঠিক নিয়ম না জেনে ওমরাহ পালনের জন্য দালালদের খপ্পরে পরে অনেক টাকা দিয়ে থাকেন। পরে দালাল চক্র ঐ টাকা নিয়ে আর আপনার সাথে কোন রকমের যোগাযোগ করে না। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত দুই ভাবে ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। 

সৌদি-আরবের-ওমরাহ-ভিসার-জন্য-আবেদন-করার-নিয়ম


প্রথমতঃ অনলাইনে আবেদন করা- বর্তমানে সৌদি সরকার অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনের মাধ্যমে ওমরাহ ভিসার আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে। এজন্য সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে। তবে একা একা আবেদন করতে গেলে অনেক সময় জটিলতা হতে পারে। তাই অনলাইনে আবেদন করার অভিজ্ঞতা না থাকলে, সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত এজেন্সির বা পরিচিত কারোর মাধ্যমে ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন  করাই ভালো। 

দ্বিতীয়তঃ সরকার অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে- সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো সরকার অনুমোদিত লাইসেন্স প্রাপ্ত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করা। এজেন্সি আপনার সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে অনলাইনে আবেদন করবে। সাধারণত এজেন্সি নিচের কাজগুলো করে দেয়। প্রথমত- ভিসার আবেদন, দ্বিতীয়ত- বিমান টিকিট বুকিং, তৃতীয়ত- হোটেল বুকিং, চতুর্থত- পরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি। তাই নতুন বা প্রথমবার যারা ওমরাহ করতে যান তাদের জন্য এই পদ্ধতি অনেক সহজ।  

ওমরাহ ভিসা আবেদন করার ধাপ সমূহ 

ওমরাহ ভিসা আবেদন করার ধাপ সমূহঃ ওমরাহ ভিসা আবেদন করার নিয়ম এখন আমরা ধাপে ধাপে জানবো। প্রথম ধাপঃ পাসপোর্ট প্রস্তুত করা- প্রথমেই নিশ্চিত করুন আপনার পাসপোর্ট বৈধ আছে এবং পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। দ্বিতীয় ধাপঃ ট্রাভেল এজেন্সি নির্বাচন- বিশ্বস্ত এবং সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত এজেন্সি নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং এজেন্সির লাইসেন্স আছে কিনা যাচাই করে দেখা উচিত।

আরও পড়ুনঃ সৌদি আরবের ভিসা চেক করার নিয়ম

তৃতীয় ধাপঃ ওমরাহ প্যাকেজ নির্বাচন করা- ওমরাহ পালনের এজেন্সিগুলো সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ দিয়ে থাকেন। যেমন ১০ দিনের প্যাকেজ, ১৫ দিনের প্যাকেজ, ২০ দিনের প্যাকেজ, ৩০ দিনের প্যাকেজ ইত্যাদি। আপনার বাজেট কত হবে সেই অনুযায়ী প্যাকেজ নির্বাচন করতে পারেন। চতুর্থ ধাপঃ কাগজপত্র জমা দেওয়া- এজেন্সির সাথে সমস্ত কথা ফাইনাল হবার পর, আপনার পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এজেন্সিতে জমা দিতে হবে। 

পঞ্চম ধাপঃ ভিসা প্রসেসিং- সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরে, এজেন্সি অনলাইনে আপনার ভিসার জন্য আবেদন করবে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে আবেদন করার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে আপনার ভিসা হয়ে যাবে। ষষ্ঠ ধাপঃ ভিসা পাওয়া- ভিসা অনুমোদন হয়ে গেলে আপনার পাসপোর্টে ভিসা ইস্যু করা হবে বা ইলেকট্রনিক ভিসা (ই-ভিসা) দেওয়া হবে। 

ওমরাহ ভিসা করতে কত খরচ হয় 

ওমরাহ ভিসা করতে কত খরচ হয়ঃ সাধারণত ওমরাহ ভিসার খরচ নির্ভর করে আপনার প্যাকেজের উপর। আপনি কি ধরনের প্যাকেজ নিতে চান তার উপর। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত এক লাখ ত্রিশ হাজার (১৩০,০০০) টাকা থেকে তিন লাখ (৩,০০,০০০) টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এই প্যাকেজ বা খরচের মধ্যে থাকে সাধারণত ভিসা ফি, বিমান ভাড়া, হোটেল ভাড়া, পরিবহন ভাড়া ইত্যাদি। তবে আপনার ওমরাতে থাকার সময় অনুযায়ী, প্যাকেজের খরচ কিছু কম বা বেশি হতে পারে। 

ওমরাহ ভিসার মেয়াদ কত দিন হয়

ওমরাহ ভিসার মেয়াদ কত দিন হয়ঃ ওমরাহ ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ দিনের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। এই সময়ের মধ্যে অবশ্যই আপনাকে ওমরাহ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসতে হবে। আর যদি কেউ নির্দিষ্ট টাইম এর মধ্যে ফিরে না আসে, তাহলে সেই দেশের (সৌদি) নিয়ম অনুযায়ী তার বিচার করা হয়। তবে সাধারণত কেউ থাকে না, সবাই চলে আসে। আর যদি কেউ থেকে যায় তাহলে যে এজেন্সির মাধ্যমে গেছে অনেক সময় বাংলাদেশ সরকার ঐ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে দেয়। তাই এজেন্সিকে সব সময় মনে রাখতে হবে যেন সবাই ওমরাহ শেষে দেশে ফিরে আসে।

ওমরাহ করতে গেলে যে বিষয়গুলো জানা দরকার 

ওমরাহ করতে গেলে যে বিষয়গুলো জানা দরকারঃ ওমরাহ করতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা উচিত। যেমন প্রথমত- এহরামের নিয়ম মানা, ওমরাহ শুরুর আগে এহরাম বাঁধতে হয় এবং তার সাথে আরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। দ্বিতীয়ত- ধর্মীয় নিয়ম মানা, ওমরাহ করার নিয়ম আগে থেকে শিখে নেওয়া ভালো। তৃতীয়ত- স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওমরাহ যাবার বা ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। চতুর্থ- প্রয়োজনীয় টাকা রাখা, ব্যক্তিগত খরচের জন্য কিছু অতিরিক্ত টাকা রাখা দরকার। কারণ যে কোন সময় টাকার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় 

সৌদি-আরবের-ওমরাহ-ভিসার-জন্য-আবেদন-করার-নিয়ম

প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়ঃ ওমরাহ ভিসা করার সময় অনেক মানুষ প্রতারণা শিকার হন। তাই কয়েকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার। যেমন প্রথমত- সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত এজেন্সি নির্বাচন করুন। দ্বিতীয়ত- অনেক এজেন্সি খুব কম দামের প্যাকেজে দিয়ে থাকে তাতে বিশ্বাস করবেন না। তৃতীয়ত- সমস্ত কাগজপত্র ভালভাবে যাচাই করে নিন। যেমন ভিসা, এয়ারটিকিট এবং হোটেল বুকিং ইত্যাদি। চতুর্থত- টাকা দেওয়ার সময় অবশ্যই সেই টাকার রশিদ নিন। এই বিষয়গুলো ভালভাবে মানলে প্রতারণার ঝুকি অনেক সময় কমে যায়। 

আরও পড়ুনঃ নতুন নিয়মে সৌদি ভিসা চেক করার উপায়

ওমরাহ পালন করার প্রধান ধাপগুলো 

ওমরাহ পালন করার প্রধান ধাপগুলোঃ বাংলাদেশ থেকে অনেক ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে জান। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই জানে না ওমরাহ পালন করার নিয়ম। তাই ওমরাহ পালন করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল। যেমন প্রথমত- ওমরাহ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল এহরাম বাধা। দ্বিতীয়ত- সাত পাক কাবা শরীফ তাওয়াফ করা। তৃতীয়ত- ছাপা ও মারওয়া পর্বত ছাঙ্গ করা। চতুর্থত- চুল কাটা বা মাথা মুন্ডানো করা। এই সব ধাপগুলো অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। তাহলে আল্লাহর রহমতে আপনার ওমরাহ সম্পন্ন হবে। 

শেষ কথাঃ সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম 

সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়মঃ সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করা এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। সঠিক নিয়ম জানলে খুব সহজেই আপনি ভিসা করে পবিত্র কাবা শরীফ জিয়ারত করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারবেন। সব সময় মনে রাখবেন বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্সি নির্বাচন করা এবং সঠিক কাগজপত্র চেক করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে কোন ঝামেলা ছাড়াই আপনি আপনার স্বপ্নের ওমরাহ পালন করতে পারবেন। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে পবিত্র ওমরাহ পালনের তৌফিক দান করুন আমীন। 

প্রিয় পাঠক, আপনাদের সাথে আমার আজকের সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করার নিয়ম এই পোষ্ট নিয়ে আলোচনা করলাম। কিভাবে আপনি ওমরাহ পালন করার জন্য ভিসা আবেদন করবেন তা নিয়ে বেশ কয়েকটি উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আমার এই পোষ্টটি যদি আপনাদের ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু এবং পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে তাদের কেউ জানার সুযোগ করে দিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সুপারমাষ্টার আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mohammad Nurul Islam
Mohammad Nurul Islam
আমি সুপারমাষ্টার আইটির অ্যাডমিন এবং একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট। আমি একজন অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে থাকি।